২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৪
পার্বত্যবাসী মনে করে সেখানে সংঘাত ঘটতে দেওয়া হচ্ছে
প্রথম আলো:
আবার অশান্ত হয়ে উঠল পার্বত্য চট্টগ্রাম। গণপিটুনিতে একজন বাঙালি নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের সহিংসতায় চারজন পাহাড়ির প্রাণ গেছে। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে যে মাত্রার সহিংসতা দেখা গেল, এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ আছে বলে মনে করেন কি?
দেবাশীষ রায়: মোটরসাইকেল চুরির একটি অভিযোগে এক বাঙালি যুবক গণপিটুনিতে নিহত হন, এটা অবশ্যই নিন্দনীয়। কিন্তু এর সঙ্গে বাকি হত্যা ও সহিংসতাকে মিলিয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই। পরের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জাতিগত বিষয় ছিল, উত্তেজনা ছিল। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা বা ভূমিকার অনুপস্থিতির বিষয়ও জড়িত ছিল।
এমন রটেছিল যে বাঙালি যুবককে পাহাড়িরাই হত্যা করেছেন। পরে দেখা গেল, সেই যুবকের স্ত্রী যখন মামলা করলেন, সেখানে তিনি সব বাঙালির নাম উল্লেখ করেছেন। তাই সেই যুবককে কেবল পাহাড়িরা মেরেছেন বলে যেটা বলা হয়েছিল, সেটা আসলে গুজব। পাহাড়িদের ওপর যাতে বাঙালিদের ক্ষোভ হয়, তা উসকে দিতেই বলব যে এই গুজব রটানো হয়েছিল। কোনো মহল থেকে এটা ছড়ানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ জানে। দেশের বাকি অংশের মানুষ? তাঁরা কি আসলে জানতে চান কী হয়েছে?
প্রথম আলো:
পাহাড়ে এ ধরনের ঘটনা তো নতুন নয়। বারবার এটা কেন হয়?
দেবাশীষ রায়: এটা ঠিক বলেছেন। আমার সার্কেল চিফ হওয়ার ৪৭ বছরে কেবল রাঙামাটি শহরে এ ধরনের অন্তত চারটি সহিংসতা হলো। এর মধ্যে ১৯৯২ সালের ২০ মে, ২০১২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সালের ১০ থেকে ১৩ জানুয়ারি এবং এবারে ২০২৪-এ ২০ সেপ্টেম্বর। প্রতিবার ঘটনা ঘটে আর প্রশাসন থেকে বলা হয় যে আমরা যেন পুরোনোটা ভুলে যাই। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের নিশ্চয় প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি (ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি) বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে বা থাকা উচিত। আগের তিন ঘটনায় কারা আক্রান্ত হয়েছেন, কত ক্ষতি হয়েছে, আর ঘটনার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের আদৌ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না—এগুলো না জানলে ও না বুঝলে ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেব? কোনো ঘটনা কিন্তু রাতে হয়নি, দিনদুপুরে হয়েছে। আবার গ্রামে হয়নি, খোদ রাঙামাটি শহরে হয়েছে।


