সোমবার ২০শে এপ্রিল ২০২৬ | ৭ই বৈশাখ ১৪৩৩

অনলাইন ভার্সন

২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৪

জীবনযাপন

ভিনদেশে পড়তে যাওয়া নিয়ে নানা সংকটে শিক্ষার্থীরা

জাহিদ হোসাইন খান

ভিসা–সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারে সমস্যা

জুলাই মাসের শুরু থেকেই বিভিন্ন দূতাবাস তাদের ভিসা কার্যক্রম সীমিত করে ফেলেছিল। ফলে যাঁরা আগামী সেশনে ভর্তির জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের অনেকেই আবেদন করার সুযোগ হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন সোনিয়া সুলতানা। শোনালেন তাঁর অভিজ্ঞতা, ‘১৯ জুলাই আমার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ইন্টারভিউ ছিল। এদিকে তখনই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলো। খুব সমস্যায় পড়েছিলাম। ২৬ জুলাই আবার তারিখ পেলাম। কিন্তু এরপর সব ভিসা ইন্টারভিউই বাতিলের ঘোষণা আসে। অনেক ঝামেলার পর ১৯ আগস্ট ইন্টারভিউ দিই। ভিসা পেয়ে টিকিটও কেটে ফেলি। কিন্তু তখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানানো হয়, দেরি হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সেশনে ভর্তির সুযোগ আর নেই। আমাকে আগামী জানুয়ারি সেশনে ভর্তি করা হয়েছে। কী আর করা, মাঝখান থেকে বিমানের টিকিটের টাকাটা নষ্ট হলো। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জানুয়ারিতে মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স শুরু করব। আমার মতো অনেক শিক্ষার্থীই সেশন মিস করেছেন। অনেকের ফান্ডিং বা বৃত্তি বাতিলের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে শুনেছি।’

বৃত্তি ও ফান্ডিংয়ে সমস্যা

পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তি ও ফান্ডিংয়ের সমস্যায় পড়েছেন। কারও কারও ভর্তির ‘অফার লেটার’ বাতিল হয়ে গেছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএর শিক্ষার্থী জেনিফার বিঞ্জালি যেমন বললেন, ‘যুক্তরাজ্যে মাস্টার্সে পড়ার জন্য এ বছরের শুরু থেকে চেষ্টা করছিলাম। সেপ্টেম্বরের সেশন ধরার জন্য সবকিছু তৈরি করেছিলাম। আইইএলটিএস পরীক্ষা থেকে শুরু করে সব ঠিকঠাক চলছিল। অ্যাস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটারও পেয়েছিলাম। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ঠিকঠাক যোগাযোগ রক্ষা করতে পারিনি। পরে যোগাযোগ করলেও আর উত্তর পাইনি। একই সঙ্গে আমি আমেরিকায় মাস্টার্সের জন্যও চেষ্টা করছিলাম। আগস্ট মাসের শুরুতে দেখলাম, ভিসা দেওয়া বন্ধ আছে। তাই এখন আবেদন করাও বন্ধ রেখেছি। আমার অনেক বন্ধু ভিসার তারিখ পরিবর্তনের কারণে যেতে পারছে না। একটা অস্থির পরিস্থিতির মধ্য আছি। যুক্তরাজ্যের একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন হাজার পাউন্ডের একটি বৃত্তির অফার পেয়েছিলাম। সেটাও নিতে পারিনি।’

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের প্রভাষক নাফিসা নাজীন বলেন, ‘বৃত্তি, ফান্ডিং, সেশন মিস হওয়া—এসব সমস্যা তো আছেই। আবার দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কিছুটা স্থবির থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহজে জোগাড় করা যাচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও আন্তরিক হওয়া দরকার।’

‘সেশন মিস’

জুন-জুলাই মাসের সেশনটা ধরতে অনেক শিক্ষার্থী-গবেষকই আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কারণ, এই একটা সেশন মিস হলে পিছিয়ে যেতে হয় প্রায় ছয় মাস। সেই বিপাকেই পড়েছেন অনেকে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন মোহাম্মদ জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে অনার্স করেছি। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্সের জন্য আবেদন করেছিলাম। ভর্তির প্রক্রিয়া চলছে। অফার লেটার পাওয়ার পর বেশ সমস্যা পড়েছি। অস্ট্রিয়ার ভিসার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভারতে যেতে হয়। কিন্তু ভারতীয় ভিসার জটিলতার জন্য অস্ট্রিয়ার ভিসার সাক্ষাৎকারের তারিখ মিস হয়ে গেছে। এর মধ্যে জার্মানির অপরচুনিটি কার্ড ভিসার জন্য আবেদন করেছি। বাংলাদেশ থেকে এই ভিসার জন্য ব্লক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখতে হয়। দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ব্লক অ্যাকাউন্ট করার ক্ষেত্রে বেশ কড়াকড়ির কারণে অনেক শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন না। জার্মান দূতাবাসেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কয়েকবার ভিসার সাক্ষাৎকারের তারিখ বদলে গেছে। নতুন তারিখ পেতে সমস্যা হচ্ছে।’

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
প্রিন্ট সর্বাধিক